Tuesday, 30 June 2020

Bengali Essay on "Mother Teresa", "Mother Teresa Bengali Rachana", "মাদার টেরিজা বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

Essay on Mother Teresa in Bengali Language: In this article, we are providing মাদার টেরিজা বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা for students. Mother Teresa Bengali Rachana.

Bengali Essay on "Mother Teresa", "Mother Teresa Bengali Rachana", "মাদার টেরিজা বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

Bengali Essay on "Mother Teresa", "Mother Teresa Bengali Rachana", "মাদার টেরিজা বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10
হয়তাে মাদার টেরিজা নামকরণটি সঠিক হয়নি, তাকে বিংশ শতাব্দীর ‘সন্ন্যাসিনী’ বলে আখ্যায়িত করা যায়। সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া, শাড়ীর আঁচল দিয়ে মাথা ঢাকা, এই মহিলা ভগবানের দূত হিসাবে এই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছিলেন। যে সময় বাহ্যিক আড়ম্বরের চাহিদায় প্রতিযােগিতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে আমরা চরম সংকটের মুখে পতিত হয়ে নিজের বিবেকবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলাম সেই সময় ক্ষমার প্রতিমূর্তি হয়ে তিনি আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং বিশ্বের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োেগ করেছিলেন। তিনি দরিদ্র, বৃদ্ধ, বিকলাঙ্গ, গৃহহীন এবং অনাথ শিশুদের সেবায় আত্মনিয়ােগ করে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছিলেন।
Read also: Bengali Essay on My favorite leader / লালবাহাদুর শাস্ত্রী বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা
১৯১০ সালের ২৬শে আগস্ট অ্যাগনিস গােনাক্সা বােজক্সিও জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি হলেন আমাদের মাদার টেরিজা। তাঁর পরিবার ছিল আলবেনিয়ান সম্প্রদায়ভুক্ত। আলবেনিয়াম সম্প্রদায়ের বেশীর ভাগ লােক মুসলিম হলেও তাঁরা ছিলেন ক্যাথলিক। তাঁর পিতা কোলে ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তাঁর মাতা ড্ৰানা ছিলেন গৃহবধূ। তাদের তিনটি সন্তানের মধ্যে অ্যাগন্সি ছিল কনিষ্ঠ সন্তান। অ্যাগন্সি যখন নয় বছরের মেয়ে তখন হঠাৎ করে তার বাবা মারা যান। ড্রানা তার পরিবারের ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি বিয়ের পােশাক ও বিভিন্ন রকম সেলাই করে পয়সা উপার্জন করতেন। এই রকম কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চললেও তাঁরা ছিলেন ধর্মপ্রবণ মানুষ। তারা প্রত্যেক সন্ধ্যায় নিয়ম করে প্রার্থনা করতেন এবং প্রতিদিন চার্চে যেতেন এবং জপমালা নিয়ে জপ করতেন, এবং পবিত্র মেরীর পায়ে নিজেদের সমর্পন করতেন। লেটনাইস থেকে প্রতিবছর একটা তীর্থযাত্রার। বন্দোবস্ত করা হােত, সেই যাত্রায় আমাদের মাদার তার পরিবারের রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণ করেছিলেন।
Read also: Bengali Essay on Shivaji Maharaj / শিবাজী মহারাজ বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা
এই ধর্মীয় যাত্রা অ্যাগনিসের উপরে গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছিল। এই ছােট্ট বয়স থেকেই তিনি যাজকদের ব্যক্ত করা ধর্মোপদেশ নিখুঁতভাবে বুঝতে পারতেন, তিনি সেইগুলিই অভ্যাস করার চেষ্টা করতেন। তার মা ছােট্ট অ্যাগন্সিকে মানুষদের গভীরভাবে ভালােবাসতে শিখিয়েছিলেন। তিনটি সন্তান প্রতিপালন করতে গিয়ে ড্ৰানা হিমসিম খেতেন এবং সেই কারণে তিনি এক প্রতিবেশী সুরাসক্ত মহিলার দেখা-শােনা শুরু করেন। তিনি তাঁকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করিয়ে দিতেন এবং দিনে দুবার খাইয়ে দিতেন। তারপর তিনি একজন বিধবা মহিলা এবং তার ছয় সন্তানেরও দেখাশােনা শুরু করেছিলেন। যে দিন ড্ৰানা কাজে যেতে পারতেন না সেদিন অ্যাগন্সি তার কাজ করতেন। এই বিধবা মহিলার মৃত্যুর পর এই ছয়টি বাচ্চা অ্যাগন্সিয়ের জীবনের অংশে পরিণত হয়েছিল। এই কাজের মধ্যে দিয়েই তার মধ্যে মায়ের সুপ্ত রূপ খুঁজে পাওয়া যায়, এছাড়া সকল মানুষের জন্যই অ্যাগন্সিএর মনে দয়া ছিল। এটাই তার চরিত্রের অংশ হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমেই তাঁর পরবর্তী জীবন চালিত হয়েছিল। তিনি দুঃস্থ এবং দরিদ্রদের সেবাতেই আত্ম নিয়ােগ করেছিলেন।
বারাে বছর বয়সেই তিনি প্রথম বার ভগবানের সেবায় আত্মনিয়ােগ করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনে তখন কোন নিশ্চয়তা ছিল না। তিনি তাঁর মা এবং দিদির সাথে কথা বলেন এবং তাদের কাছে। মিনতিও করেন। তিনি তার মনের বাসনাকে পূর্ণ করার জন্য ফাদারের সাথেও কথা বলেছিলেন, সেখান থেকেই তিনি নূতন পথের সন্ধান পেয়েছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিভাবে আমি নিশ্চিত হব? উত্তরে তিনি বলেছিলেন ‘... আমাদের আনন্দের মধ্যে দিয়ে। ভগবান তােমাকে তার এবং তােমার প্রতিবেশীদের সেবার জন্য ডাকছেন এই চিন্তা যদি তােমাকে প্রকৃত আনন্দ দেয়, তবে এই হবে তােমার ডাকের প্রধান সাক্ষী... তুমি যদি গভীর আনন্দ উপভােগ কর তবে তােমার জীবনের কম্প্যাস তােমার দিক নির্ণয় করে দেবে।'
Read also: Bengali Essay on Mahatma Gandhi / মহাত্মা গান্ধী বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা
অ্যাগন্সি আঠেরাে বছর বয়সেই তার জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। দু বছর ধরে তিনি লেনটিসের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সেবায় আত্মনিয়ােগ করেছিলেন, তখন তিনি ভারতের জন্য জনহিতকর কাজ করার তাগাদা অনুভব করেন। তারপর তিনি সিস্টার অফ আউর লেডি অফ মরেটোতে অংশগ্রহণ করেন এরা ভারতের ব্যাপারে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল। ১৯২৮ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর তিনি লরেটো সিস্টারের মায়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য দুবলিনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। এখানে অ্যাগন্সি ইংরাজী বলতে শিখেছিলেন এবং তাকে ধর্মীয় জীবনের জন্যও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সিস্টার হওয়ার জন্য সমস্ত রকম অভ্যাস সম্পূর্ণ হওয়ার পর তিনি সিস্টার টেরিজা নামে পরিচিত হয়েছিলেন। ১৯২৮ সালের ১লা ডিসেম্বর তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা এবং নূতন জীবন শুরু করেন।
দার্জিলিং-এ এসে শপথ বাক্য পাঠ করার পর সিস্টার টেরিজা দুঃস্থ অসুস্থদের দেখাশােনা করার জন্য আত্মনিয়ােগ করেছিলেন। তারপর তিনি শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে কোলকাতার একটি সেকেন্ডারী স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে নিয়ােগ হন। তিনি শুধুমাত্র বিদ্যার্থীদের ইতিহাস এবং ভুগােলই পড়াতেন না তারই সাথে সময় বার করে বাচ্চাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারের কথা জানার চেষ্টা করতেন। তার সাথে সংযুক্ত সমস্ত ব্যক্তিকেই তিনি ভালােবাসতেন। যে সমস্ত বাচ্চারা তাকে ‘মা’, বলে ডাকত তাদের ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। কোলকাতার ঘিঞ্জি পরিবেশের জন্য এই সংস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওখানকার দরিদ্র মানুষদের অবস্থা তার হৃদয়কে যথেষ্ট ব্যথিত করে তুলেছিল। তিনি এই দুঃখ যন্ত্রণার মধ্যে থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। কয়েকজন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই ঘিঞ্জি পরিবেশে চলে যান এবং এই দরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে থাকেন। এই আর্ত মানুষদের জন্য তিনি যা করেছিলেন তা সত্যিই অবিস্মরণীয়। এই বছরগুলিতে বেলজিয়াম ওয়ালন ডােসুইট, ফাদার হেনরি তাকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দান করেছিলেন।
১৯৩৭ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর তাঁকে পুনরায় দার্জিলিং-এ প্রেরণ করা হয়। অনেক বছর বাদে মাদার টেরিজা এটিকে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এই যাত্রা পথে তিনি ভগবানের স্বর শুনতে পেয়েছিলেন। তার স্বর যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল, তিনি তাকে দরিদ্রদের সাহায্য করার জন্যই বাঁচতে বলেছিলেন। "It was an order, a duty, an absolute certainty. I knew what to do but I did not know how."
১০ই সেপ্টেম্বরকে ‘উৎসাহের দিন’ বলে চিহ্নিত করা হয়।
Read also: Bengali Essay on Diwali Festival / Diwali Bangali Rachana
সঙঘ ত্যাগ করা এত সহজ কাজ ছিল না। এই বিষয়টি যথেষ্ট সচেতনভাবে গ্রহণ করতে হােত। এই ব্যাপারটি দেখাশােনা করেছিলেন কলকার খ্রীষ্টীয় যাজক। তিনি সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট সচেতন ভাবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় ভারতীয় রাজনীতিও যথেষ্ট উত্তেজিত ছিল। ভারত তখন প্রায় স্বাধীন হওয়ার মুখে। তখন প্রশ্ন এই ওঠে যে – ভারত স্বাধীন হওয়ার পর একজন ইউরােপিয়ানকে গ্রহণ করা হবে কি? রােম এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে কি? সন্ত আন্নার কন্যা হিসাবে যােগাদন করার আগে মাদার টেরিজা এক বছর অপেক্ষা করেছিলেন, সেখানকার সিস্টাররা গায় নীল রং শাড়ী পরতেন এবং দরদ্রদের সাহায্য করতেন। সিস্টার টেরিজা হতাশ হয়েছিলেন। তিনি শুধুমাত্র দুঃস্থদের সেবাই করতে চাননি বরং তাদের জন্য বাঁচতে চেয়েছিলেন এবং এই অপেক্ষার কোন শেষ ছিল না। ১৯৪৮ সালের আগস্ট মাসে বােমের পােপ এবং ডুবলিনের মাদার জেনারেল তাকে লরেটো সংস্থা ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই মাদার টেরিজা গরীবের মতন, শুদ্ধভাবে এবং নৈতিকতার মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাবেন বলে পথ গ্রহণ করেছিলেন। লরেটোর সিস্টার হিসাবে তিনি যে অভ্যাস করেছিলেন তা পরিত্যাগ করে শস্ত নীল পেড়ে সাদা সুতির শাড় ধারণ করেছিলেন। সিস্টার টেরিজা তারপর একজন সেবিকা হিসাবে ট্রেনে করে পাটনা যান। অসুস্থদের সেবা করার জন্য একটা প্রশিক্ষণের প্রয়ােজন আছে এটা তিনি অনুভব করেছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর টেরিজা কোলকাতায় ফিরে আসেন এবং তারপর তিনি দরিদ্রদের সেবায় সম্পূর্ণভাবে নিজেকে সমর্পন করেন। তারপর তিনি কোলকাতার রাস্তা এবং ঘিঞ্জি পরিবেশের একজন পরিচিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তার সাদা শাড়ি, অবাধ বাংলা ভাষা এবং অদম্য প্রয়াস কোলকাতার ঘিঞ্জি পরিবেশ এবং শিক্ষাকে উন্নত করে তুলেছিল এবং খুব শীঘ্র তাকে একজন প্রিয় মানুষে পরিণত করেছিল। এই একাকি ইউরােপিয়ান . মহিলার আত্ম উৎসর্গ দেখে তাকে সাহায্য করার জন্য একজন বাঙালি যুবতী এগিয়ে আসেন, তিনি সিস্টার টেরিজার প্রাক্তন ছাত্রী ছিলেন। তিনিও তার সাথে এই কাজে আত্মদান করার জন্য অনুমতি চাইতে এসেছিলেন। যুবতিটি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা ছিলেন। সিস্টার টেরিজা এই। আত্মােৎসর্গের পিছনে কত যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে তা বর্ণনা করেছিলেন। তিনি তাকে এক বছর অপেক্ষা করতে বলেছিলেন এবং তারপরেও যদি তার মনে এই ইচ্ছা থাকে তবে তিনি তাঁকে এই জনহিতকর কাজের জন্য এগিয়ে আসতে বলেছিলেন। ১৯৪৯ সালের ১৯শে মার্চ এই যুবতীটি সমস্ত রকম। সরলতার এবং বিশ্বাসের সাথে ফিরে এসেছিলেন। তার এই কাজে তিনি প্রথম সিস্টার টেরিজার সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং অযাচিত ও দরিদ্রদের প্রচুর উন্নতি সাধিত করেছিলেন। তার ধর্মীয় প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে তিনি যে অভ্যন্তরীণ শক্তি সঞ্চয় করতেন তার সাহায্যেই তিনি এই মহান কাজ সম্পন্ন করতে সমর্থ হতেন। সেই সময় সিস্টার টেরিজা তাঁর কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা সম্পর্কে যথেষ্ট নিশ্চিত ছিলেন।
ক্রমাগত প্রচেষ্টার ফলে তার দল বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারপর সিস্টার টেরিজা একটা সমাবেশ শুরু করার জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করেছিলেন। ১৯৫০ সালে ৭ই অক্টোবর এটি অনুমােদনও পেয়েছিল। তারপর ‘সােসাইটি অফ দ্যা মিশনারি অফ চ্যারেটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেইদিনটা পবিত্র সন্তদের উৎসবের দিন ছিল। পাঁচ বছর বাদে তার সংস্থা আরও বড় হয়ে যায় এবং অনেক সিস্টাররা সেই সভায় যােগদান করেন এবং দুঃস্থ ও পীড়িতদের উন্নতির চেষ্টা করেন।
Read also: Bengali Essay on Science Boon or Curse / vigyan ashirbad na abhishap
কোলকাতাতে মিশনারি অফ চ্যারেটির লােক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং তাদের একটা বাসস্থানের দরকার ছিল। সেই সময় একজন মুসলমান পাকিস্থানে গিয়ে বসবাস করবে বলে খুব কম দামে তার বাড়িটি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন এবং পরে সেটাই বিখ্যাত মাদার হাউস রূপে পরিচিত হয়, ৫৪, লােয়ার সার্কুলার রােড, কোলকাতা। সঙঘ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাদারের কাজও বৃদ্ধি পেয়েছিল। ভারতীয় কুষ্ঠ রােগীদের জন্য তিনি যে কাজ করেছিলেন তা আন্তর্জাতিক দিক থেকেও যথেষ্ট প্রভাব সৃষ্টি করতে পেরেছিল। শান্তির জন্য ১৯৭৯ সালে তাঁকে নােবেল পুরস্কার দান করা হয়েছিল। এই সম্মান পাওয়ার পর মাদার টেরিজা বলেছিলেন - ‘আমি আমার দরিদ্র মানুষদের জন্য অভাব বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমি এই ক্ষুধার্ত, উলঙ্গ, গৃহহীন, খোঁড়া, অন্ধ, কুষ্ঠে আক্রান্ত ব্যক্তি, যে সমস্ত ব্যক্তিরা নিজেদেরকে অপাংতেয়, অপছন্দের ব্যক্তিগণ, সমাজ যাদের বিতাড়িত করে দেয়, যারা সমাজের কাছে গণ্ডী হয়ে দাঁড়ায় এবং প্রত্যেকে যাদেরকে এড়িয়ে চলে তাদের নামে এই পুরস্কার (ননাবেল) পেয়ে নিজেকে কৃতজ্ঞ মনে করছি।
১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মাদার টেরিজা রাত্রি সাড়ে নয়টার সময় হৃদরােগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিশ্বের দরবারে এটা ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। মাদার টেরিজাকে ১৯৯৭ সালে ১৩ই সেপ্টেম্বর কবর দেওয়া হয়েছিল, ঠিক সাত মাস বাদে সিস্টার নির্মলাকে উত্তরাধিকারী হিসাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্মল হৃদয়ের এই শূন্যস্থান হয়তাে আর কোনদিনই পূরণ হবে না। তাঁর জীবিতকালে তিনি যাদের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছিলেন এবং যারা তার স্নেহের স্পর্শ অনুভব করতে পেরেছিলেন তাদের সকলের স্মৃতিতেই তিনি সারাজীবন বেঁচে থাকবেন।

SHARE THIS

Author:

I am writing to express my concern over the Hindi Language. I have iven my views and thoughts about Hindi Language. Hindivyakran.com contains a large number of hindi litracy articles.

0 comments: