Bengali Essay on "Mahatma Gandhi", "Mahatma Gandhi Bengali Rachana", "মহাত্মা গান্ধী বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

Admin
0
Essay on Mahatma Gandhi in Bengali Language: In this article, we are providing মহাত্মা গান্ধী বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা for students. Mahatma Gandhi Bengali Rachana.

Bengali Essay on "Mahatma Gandhi", "Mahatma Gandhi Bengali Rachana", "মহাত্মা গান্ধী বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

Essay on Mahatma Gandhi in Bengali Language
মহাত্মা গান্ধীকে এশিয়ার বিস্ময় বলে চিহ্নিত করা যায়, তাকে অহিংসা এবং সত্যের প্রতিমূর্তিও বলা যেতে পারে। তিনি ১৮৬৯ সালের ২রা অক্টোবর গুজরাটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন সম্রান্ত পরিবারের মানুষ। তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সেই এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। স্কুলে থাকাকালীন তিনি, নিয়মিত স্কুলে যেতেন এবং খুবই প্রতিভাবান ছাত্র ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ডে আইন নিয়ে পড়াশােনা করে একজন . ব্যারিস্টার হয়েছিলেন। তারপর তিনি ভারতে ফিরে এসে বােম্বে হাই কোর্টে নিয়মিত অভ্যাস শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার এই কর্মজীবনের প্রতি তার কোন আগ্রহ ছিল না। তাই তিনি ভারতের মুক্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম করবেন বলে আত্ম নিয়ােগ করেছিলেন।
তিনি সাউথ আফ্রিকাতেও গেছিলেন। সেখানে ভারতীয়দের অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়াস করেছিলেন। তিনি নিজের প্রত্যয়ের উপর অটল ভাবে দাঁড়িয়ে সেই সমস্ত পীড়িত মানুষদের কষ্ট দূর করার চেষ্টা করেছিলেন।
সাউথ আফ্রিকা থেকে ফিরে গান্ধীজী ভারতের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ভারতকে ব্রিটিশ শক্তির হাত থেকে মুক্ত করার জন্য তিনি শপথ গ্রহণ করেছিলেন। ভারতের মাটি থেকে ব্রিটিশদের শেকড় উৎপাটন করার জন্য মহাত্মা গান্ধী তার সমস্ত কিছু ত্যাগ করেছিলেন।
তিনি তার সম্পূর্ণ জীবনটা কষ্ট এবং আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতাই ছিল গান্ধীজীর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। ১৯১৯ সালে তিনি অহিংস আন্দোলন এবং শান্তিপূর্ণ পথে যাত্রা শুরু করেন। হিন্দু মুসলিম ঐক্যতা সৃষ্টি এবং স্বদেশী দ্রব্যের ব্যবহার তার জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। '
মহাত্মা গান্ধী একজন শান্তিপূর্ণ অথচ দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন মহান চেতা মানুষ। তিনি সাদামাটা পােশাক পরতেন এবং সাধারণ খাবার খেতেন। তাকে শুধু মানুষ বলা উচিত না বরং তাকে কর্মের মানুষ বলে চিহ্নিত করা উচিত। তিনি যে উপদেশ দিতেন সেটাই তিনি নিজেই পালন করতেন। অহিংসার পথে চলার জন্য তাকে বিভিন্ন ধরণের অসুবিধার মােকাবিলা করতে হয়েছে। তাকে অগ্নিশ্বর বলে অভিহিত করা যায়। সমস্ত দিক থেকে তিনি যথেষ্ট সজাগ ছিলেন। তিনি যেকোন ভাবে এবং যেকোন আকারে সাম্প্রদায়িকতাকে আঘাত করতে চাইতেন। তিনি সকলের বন্ধু ছিলেন এবং কারুর সাথেই কখনও শত্রুতা করেন নি। বিশ্বের সমস্ত মানুষ তাকে ভালােবাসে এবং শ্রদ্ধা করে।
ভারতের রাজনীতিতে মহাত্মাগান্ধীর অবদানকে কখনই ভােলা যায় । ভারতের স্বাধীনতার জন্য সেই সমস্ত কষ্টকর দিনগুলিতে গান্ধীজী কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং বিভিন্ন সময় কারারুদ্ধ হয়েছে কিন্তু যে কোন পরিস্থিতিতে তার মাতৃভূমির স্বাধীনতাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য। তিনি কংগ্রেসের নীতি মেনে চলতেন, ভারত ছাড়াে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তাঁকে বহুবার জেলে যেতে হয়েছিল।
তাঁর সম্পূর্ণ জীবনটাই সেবা, আত্মত্যাগ এবং সমর্পনের মধ্যে দিয়ে কেটে গেছে। তার উক্তি, চিন্তা এবং লেখাগুলি ভারতবর্ষে রাজনৈতিক ইতিহাসে আজও তারকার মতন উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারী তিনি এক আততায়ির হাতে নির্মম মৃত্যু বরণ করেন, সেই দিন সম্পূর্ণ জাতি দুঃখের অতলে তলিয়ে গেছিল। তিনি নাথুরাম গডসের হাতে প্রাণ ত্যাগ করেছিলেন। তার মৃত্যু শান্তি এবং গণতন্ত্রের মূলে কঠোর আঘাত করেছিল। সেই সম্পর্কে লর্ড মাউন্টব্যাটেনর একটা বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করা যায় - "India, indeed the world, will not see the likes of him perhaps for centuries:" is মৃত্যুর ফলে জাতির জীবনে এক বিশাল শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীর মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে এবং ভালােবাসে, কালের গতিতে কখনই তার নাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে না।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !