Bengali Essay on "My favorite book", "Amar Priyo Boi Essay" for Students

Admin
0
Essay on My favorite book in Bengali Language : In this article "আমার প্রিয় বাংলা বই রচনা", "Amar Priyo Boi Essay" in Bengali for Students.

Bengali Essay on "My favorite book", "Amar Priyo Boi Essay" for Students

এমন অনেক বই আছে যেগুলি পড়া খুবই কঠিন। এই সমস্ত বইয়ের মধ্যে যে বইটি পড়তে আমি এখনও খুবই ভালােবাসি তা হল মহাভারত। মহাভারত’ হল একটি আকর্ষণীয় মহাকাব্য এবং এটি ভারতীয় সাহিত্যে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছে। মূল গ্রন্থটি বেদ ব্যাস সংস্কৃত ভাষায় রচনা করেছিলেন।
যদি বিষদ ভাবে দেখা যায় তবে দেখা যাবে, ভারতীয় সাহিত্যে মহাভারতের অবদান যথেষ্ট। এর মধ্যে বিখ্যাত কিছু নীতি এবং মতবাদের সংমিশ্রণ ঘটেছে। এর সাহায্যে একটা বিশাল আবেদন প্রতিফলিত হয়। এর গল্প যেমন আকর্ষণীয় তেমনই সৃষ্টাত্মক। এর মধ্যে দিয়ে ভারতের আলােড়ণপূর্ণ দিনগুলির প্রতিফলন ঘটে।
গল্পটি এইরূপ। পাণ্ডু এবং ধৃতরাষ্ট্র নামে দুই রাজা ছিলেন। তাদের রাজধানী ছিল হস্তিনাপুর। ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ হলেও তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র। পাণ্ডুই ছিলেন রাজা সিংহাসনের অধিকারী কিন্তু এক বিজ্ঞ মানুষের অভিশাপের জন্য তিনি মারা গেছিলেন। পাণ্ডুর মৃত্যুর পর তার বাচ্চাদের অভিভাবক হয়েছিলেন ধৃতরাষ্ট্র। কৌরব’ বংশজাত দুঃশাসন এবং দুর্যোধন ছিলেন দুষ্ট প্রকৃতির লােক। পাণ্ডুর পাঁচ পুত্র হলেন — যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব এবং তারা ‘পাণ্ডব’ নামে পরিচিত ছিলেন, তারা সমস্ত দিক থেকেই কৌরবদের তুলনায় অনেক বেশী পারদর্শী ছিলেন। সুতরাং ‘পাণ্ডব’ এবং কৌরবদের মধ্যে একটা হিংসার সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি তারা বহুবার বিভিন্নভাবে পাণ্ডবদের মারার চেষ্টা করলেও তাদের বুদ্ধি এবং সততা তাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল।
অন্যদিকে দুর্যোধন এবং দুঃশাসন তাদের মামা শকুনির অনুগত ছিলেন, যার ফলে ঘটনা নূতন মােড় নিয়েছিল। যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানাে হয়েছিল। এটা আসলে পাণ্ডবদের নিধন করার চক্রান্ত ছিল। এই খেলার শর্ত ছিল যারা এই খেলায় হারবে তাদেরকে বারাে বছরের জন্য নির্বাসনে যেতে হবে এবং তেরাে বছরের জন্য অজ্ঞাত বাসে থাকতে হবে। যদি তারা ধরা পড়ে যায় তবে পুনরায় বারাে বছরের জন্য নির্বাসনে থাকতে হবে। যুধিষ্ঠির এই পরিকল্পনাতে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শকুনির প্রতারণাপূর্ণ চালের জন্য সেএই খেলায় হেরে যায় এবং সেইকারণে তাঁকে চার ভাই এবং পত্নী সহ নির্বাসনে যেতে হয়েছিল। তাদের নির্বাসনের দিন শেষ হয়ে গেলে তারা পাঁচ কাঠা জমির দাবী করেছিল কিন্তু দুর্যোধন এক টুকরাে জমি দিতে সম্মত হন নি। তাদেরকে যুদ্ধে জিতে জমি নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এর ফলে পাণ্ডব এবং কৌরবদের মধ্যে যুদ্ধের শিখা জ্বলে উঠেছিল। নিঃসন্দেহে পাণ্ডবরা ছিলেন ধার্মিক এবং পবিত্র, অন্যদিকে ভীম এবং অর্জুন তাদের বলিষ্ঠতা, শৌর্য বীর্য এবং ন্যায়কাচিত গুণের জন্য যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ভগবান কৃষ্ণ ছিলেন পাণ্ডবদের নেতা, সুতরাং কুরুক্ষেত্রের। মাঠে কৌরব এবং পান্ডবদের মধ্যে ১৮ দিন ধরে যুদ্ধ চলেছিল। ভগবান কৃষ্ণ পাণ্ডবদের চালিত করেছিলেন এবং ফলে তারা একটা সুনিশ্চিত জয় প্রাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারপর যুধিষ্ঠির হস্তীনাপুরের রাজা হয়ে রাজসিংহাসন অলঙ্কৃত করেছিল। কিন্তু তাঁরা মন থেকে যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক রূপ যায়নি তাই তিনি তাঁর চার ভাই এবং পত্নীসহ হিমালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু যুধিষ্ঠির ব্যতিত সকলেই পথেই মারা যান। যুধিষ্ঠিরই একমাত্র স্বর্গে আরােহন করতে পেরেছিলেন।

এই সম্পূর্ণ গল্পটির মধ্যে দিয়ে মানব জীবনের নৈতিক উৎকর্ষ এবং দুশ্চরিত্রতার পরিচয় পাওয়া যায়। দুশ্চরিত্রতা এবং মন্দ পরিকল্পনার ব্যর্থতাই এই মহাকাব্যের নৈতিক বাণী। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের নেতৃত্ব এবং অর্জুনকে উজ্জীবিত করার জন্য তিনি যে বিখ্যাত উপদেশ দিয়েছিলেন তা ভারতীয় সমাজ এবং সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। এখনও বহু ভারতবাসী মহাভারত পড়েন এবং তা নিয়ে গান করেন। ভারতের সাহিত্যিক নিদর্শন হিসাবে এই অবিস্মরণীয় মহাকাব্যটি যথেষ্ট গুরুত্ব রাখে।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !