Bengali Essay on "Science is Curse", "বিজ্ঞান অভিশাপ বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

Admin
0
Essay on Science is Curse in Bengali Language: In this article, we are providing বিজ্ঞান অভিশাপ বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা for students. Bengali Essay/Paragraph on Science is Curse.

Bengali Essay on "Science is Curse", "বিজ্ঞান অভিশাপ বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

ইউএসএ, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইউকে, ইণ্ডিয়া, পাকিস্থান এবং চায়না নিউক্লিয়ার বােম সৃষ্টি করে এতই শক্তি সঞ্চয় করেছে যে, যে কোন মুহূর্তে পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিতে পারে। উপগ্রহে যাত্রা করার জন্য বিভিন্ন রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং এর ফলে আমাদের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে যাচ্ছে, এর ফলে মানুষের জীবন অত্যাধিক সংকটের মুখে পতিত হচ্ছে। উন্নততর প্রযুক্তি বিদ্যার অনুসন্ধানের জন্য প্রতিটি বৈজ্ঞানিক ব্যস্ত এবং সেই দিনের আর বেশী দেরী নেই যেদিন একটা সুইচ দেওয়ার সাথে সাথে সমগ্র মাৰ সমাজটি অতীতের তলায় তলিয়ে যাবে। হয়তাে শুধুমাত্র সামাজিক প্রাণীগুলিই বেঁচে থাকবে এবং বিশ্বের অন্য কোথাও নূতন স্থান সন্ধানের জন্য পুনরায় চেষ্টা করা হবে। কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় মৃত্য বরণ করবে, কারণ সাংসারিক খরচের অর্ধেকটাই প্রতিরক্ষার খরচ হিসাবে ব্যয় করা হবে। ভারতের উদাহরণই নেওয়া যাক। বিশ্বের কয়েকটি ঘন জনবসতিপূর্ণ দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম। আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্থান ইউএসএ, ফ্রান্স, ইরান এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র অর্জন করে। সেই জন্য আমাদেরকেও নিজেদের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে চিন্তা করতে হয় এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করতে হল। মােট খরচের প্রায় চল্লিশ শতাংশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর পিছনে খরচ করতে হয়। এই একই ঘটনা দেখা যায় পাকিস্থানের ক্ষেত্রেও। দেশের সরকার নিউক্লিয়ার যন্ত্রাংশ তৈরি করতেই ব্যস্ত থাকে, এই কারণে তারা সৈন্যবাহিনীর উপরেও যথেষ্ট খরচ করে। একটা বােমের দাম হাজার কোটি টাকার উপরে। সুতরাং সাধারণ মানুষদের খাদ্য এবং বাসস্থান নিয়ে সংশয় থাকবেই এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কয়েক বছর আগেই ইরান এবং ইরাকের মধ্যে একটা ভয়ঙ্কর যুদ্ধ সম্পাদিত হয়েছিল। উভয় দেশেরই সমস্ত সম্পদ এই যুদ্ধের আগুনে দগ্ধ হয়ে গেছিল। নিউক্লিয়ার শক্তি এই পরিবেশকেও মারাত্মক ভাবে ধ্বংস করেছিল। রাশিয়ার ছেনােবিল নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে ছিদ্র হওয়ায় শুধুমাত্র যে রাশিয়ার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তা নয় একই সাথে প্রতিবেশী দেশের পরিবেশগুলি যথেষ্ট প্রভাবিত হয়েছিল। বিকীর্ণ রশ্মির স্তর এতই উচ্চ ছিল যে এর ফলে প্রচুর পশুপাখী এবং মানুষ মারা গেছিল। 
বড় বড় কলকারখানাগুলি থেকেই প্রচুর পরিমানের ধোঁয়া এবং দূষণের সৃষ্টি হয় যা আমাদের পরিবেশকে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়। বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে যাওয়ার জন্য ভুপালে হাজারের উপর মানুষ মারা গেছিল। সুইজারল্যাণ্ডের একাট বেসরকারি সংস্থা এত মাত্রায় জল দূষণ করেছিল যে এই নদীর ধারের জনজীবন সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই দূষণ নদীর থেকে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং এতে বিভিন্ন ধরণের প্রচুর মাছ মারা যায়। 
বর্তমান যুগের বেশীর ভাগ কাজই হয় মেশিনের সাহায্যে। একটা মেশিন হাজার লােকের কাজ করে। এর ফলে বেকার সমস্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি কারখানায় কাজ করা মানুষেরাও একটা চেয়ারে বসে সম্পূর্ণ দিন অতিবাহিত করে যাচ্ছে। আমরা কায়িক পরিশ্রম করতে ভুলেই গেছি, এরফলে আমাদের স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটছে। আজ আমাদের পক্ষে এক কিলােমিটার পথও হাঁটা সম্ভব না কারণ আমাদের জীবন যানবাহন নির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে বর্তমান দিনে প্রায় প্রতিটি লােক বিভিন্ন ধরনের রােগে আক্রান্ত। আমরা একটা সুস্থ, আনন্দদায়ক এবং ব্যস্ত জীবন উপভােগ করতে পারিনা। বিজ্ঞান আমাদের চাকর রূপে নিজের জীবন শুরু করলেও অতি দ্রুত গতিতে প্রভু হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞান আমাদের শিরা উপশিরার সাথে মিশে গেছে এবং সেদিনের আর বেশী দেরী নেই সেদিন সম্পূর্ণ মানব সমাজ বিজ্ঞানের শিকারে পরিণত হবে। মানুষ যদি এখনও ঘুম থেকে না জাগে তবে মানুষ ক্ষতির সমুদ্রে নিমজ্জিত হবে।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !