টুপি লাগানো লাল ছোট্ট কোর্ট বেঙ্গালি গল্প

Admin
0

টুপি লাগানো লাল ছোট্ট কোর্ট বেঙ্গালি গল্প

কোন এক সময়ে সেখানে একটা ছােট্ট খরগােস বাস করত, সে সব। সময় টুপি লাগানাে ছােট্ট লাল পােশাক পরত। তাই তার নাম হয়ে গেছিল টুপি লাগানাে লাল ছােট্ট কোর্ট।
একদিন এই ছােট্ট খরগােস এবং তার মা একটা ঝুড়ির মধ্যে কিছু ভালাে ভালাে খাবার এবং কিছু জিনিস ভােরেছিল। গাজর, কমলালেবুর কুঁড়ি, বাড়িতে তৈরি পাঁউরুটি এবং ফলের চাটনি প্রভৃতি খরগােশের দিদা খেতে খুব ভালােবাসতাে। এই ঝুড়ির মধ্যে এই সব দ্রব্য ছিল।
তাই খরগােসের মা তাকে বলে ‘এগুলি নিয়ে সােজা দিদার বাড়ি চলে যাও।
টুপি লাগানাে ছােট্ট লাল পােশাকটি একেবারেই রাজী হয়ে গেল এবং সে বেড়ানাের প্রস্তুতির করতে লাগল, তার মা তাকে লাল কোর্টটি পরতে সাহায্য করল। তার মা তার চেনে একটা সুন্দর ফুল করে দেওয়ার চেষ্টা করল, সে শুধুমাত্র এটা করতেই সক্ষম। তারপর তার মাথায় স্নেহের স্পর্শ করে তাকে দিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করে দিল।
টুপি লাগানাে ছােট্ট লাল পােশাকটি তখন ও বেশী দূর যেতে পারেনি, হঠাৎ করে একটি নেকড়ে গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে আর তাকে জিজ্ঞাসা করে - ‘কোথায় যাচ্ছাে?
ছােট্ট খরগোেসটি বলে আমি আমার থেকে শক্তিমানদের সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক নই।
নেকড়েটি তার ঝুড়িটি দেখে জিজ্ঞাসা করে ও পিকনিক?’ খরগােসটি ঝুড়িটি তার দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বলে পিকনিকে যাচ্ছি না, এই ঝুড়িটি দিদাকে দিতে যাচ্ছি। এখন দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে এখান থেকে যেতে অনুমতি দাও।
নেকড়েটি ঝুড়িটিকে শুকে প্রশ্ন করে ফুল নাও নি? আমি কখনও একটা সুন্দর ফুলের তােড়া না নিয়ে দিদার সাথে দেখা করতে যাই না, তুমি কোথাও দাঁড়িয়ে কিছু ফুল নিয়ে নাও, তুমি কখনই তার মনে দুঃখ দিতে পার না।” 
টুপি লাগানাে ছােট্ট লাল পােশাকটি ভাবে এটা তাে সত্যিই ভালাে প্রস্তাব। সেই মত সে ফুল তুলতে ব্যস্ত হয়ে যায় এবং সেই সুযােগে নেকড়ে তার দিদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয়। দিদা তখন একটা সুন্দর পােশাক পরিধান করে তার দুলন্ত চেয়ারে বসে দোল খাচ্ছিল। তখন সে গুনগুন করে গান গাইছিল এবং কোন কাজ করছিল ফলে দরজা খােলার আওয়াজ তার কানে যায়নি। সে এতই মন দিয়ে কাজ করছিল যে এই ধূর্ত নেকেড়টি কখন ঘরে ঢুকে তার সামনে উপস্থিত হয়েছিল তা সে দেখতেই পাইনি।
সে তার খুব কাছে এসে মুখ থেকে একটা ‘ডারার’ শব্দ নির্গত করে। তাকে দেখে দিদা হাও মাও করে কেঁদে ওঠে।
নেকড়েটি বলে - আমার মনে হয় তুমি খুবই সুস্বাদু।
সে চেয়ার থেকে লাফিয়ে নেমে টেবিলে উঠে পড়ে এবং যত শীঘ্র সম্ভব ঘর ছেড়ে পালায়।
নেকড়েটি দিদার ঘর থেকে তার টুপি, ফ্রক এবং চশমা খুঁজে বার করে। সে সেগুলি পরে নাক পর্যন্ত চাদর ঢাকা দিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে।
কিছুক্ষণ বাদেই ছােট্ট খরগােশটি সেখানে এসে উপস্থিত হয়। সে দরজায় দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে ‘দিদা ঘরে আছাে?
নেকড়েটি খুব নরম সুরে বলে হ্যা আমি এখানে সােনা।
টুপি লাগানাে ছােট্ট লাল পােশাকটি তার কান দেখে বলে দিদা তােমার কান এত বড় হল কি করে?
নেকড়েটি বলে ‘তােমার সমস্ত কথা ভলাে করে শােনার জন্যে।
ছােট্ট খরগােসটি ভাবে তার দিদা কবে থেকে এত রােগুরে হয়ে গেল। সে যাতে তার কথা ভালাে মতন শুনতে পারে তার জন্য সে তারকাছেধ গিয়ে বসে এবং তখনই সে তার চোখ দুটি দেখতে পায়। সে পুনরায় প্রশ্ন করে দিদা তােমার চোখ দুটো এত বড় হল কি করে।
নেকড়েটি পুনরায় বলে ‘তােমাকে আরােও ভালাে করে দেখার জন্য। তারপর নেকড়েটি ধীরে ধীরে তার মুখ থেকে চাদর সরিয়ে ফেলে।
সে অবাক হয় এবং বলে কিন্তু দিদা তােমার দাঁতগুলি এত বড় হল কি করে?
সঙ্গে সঙ্গে নেকড়েটি বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে বলে তােমাকে ভালাে করে খাওয়ার জন্য।
তখন টুপি লাগানাে ছােট্ট লাল পােশাকটি বলে ওঠে “তুমি আমার দিদা নও।। | ‘তুমি বাগানের সেই বড় নেকড়েটা না! তুমি আমার দিদার সাথে কি করেছাে?
তখন নেকড়েটি মিচকে হেসে বলে আমি তাকে দেখতেই পাইনি। সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে কেউ বলে ওঠে তাহলে তুমি কি ভেবে এসেছিল? গলাটি কানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খরগোেসটি এবং নেকড়েটি সেই দিকে তাকিয়ে দেখে। ততক্ষণে দিদা একটা শক্তিশালী কাঠুরেকে নিয়ে ফিরে এসেছে এবং দরজায় দাঁড়িয়ে তাদের কথপােকথনে শুনছিল।
ধূর্ত নেকড়ে পুনরায় মিচকে হেসে বলে এই বুড়াে আমার মতন বুদ্ধিমান এবং দ্রুত ধাবমান নেকড়ের কিছু করতে পারবে না। সে শােয়ার ঘরের জানলার দিকে ছুটে যায় কিন্তু বেশী দূরে যেতে পারেনি। | নেকড়েটি যতক্ষণ না দিদার টুপি এবং চশমা খােলে ততক্ষণ পর্যন্ত ছােট্ট খরগােশটা তাকে আঁকড়ে থাকে।
কাঠুরিয়াটি তাকে তুলে নিয়ে নদীর ধারে চলে যায় এবং খরগােশ ও তার দিদা অদূরে দাঁড়িয়ে সব কিছু দেখতে থাকে।
কাঠুরিয়া নেকড়েটিকে একটা বড় গাছর গুঁড়িতে বসিয়ে সেটিকে নদীতে ঠেলে ফেলে দেয় এবং নেকড়েটি জলে ভাসতে ভাসতে দূরে চলে যায়।
দিদা সে দৃশ্য দেখে বলে এই বিশাল জলের মধ্যেখানে তাকে একেবারে ছােট্ট দেখাচ্ছে।
টুপি লাগানাে ছােট্ট পােশাকটি বলে ওঠে - ‘সে যখন আমাদের কাছে। ছিল তখন তাকে খুব কুৎসিত দেখাচ্ছিল।
নেকড়টি দৃষ্টির বাইরে চলে গেলে কাঠুরিয়াটি বলে ওঠে সে আর কোন দিনই ফিরে আসতে পারবে না।
নেকড়েটি চলে যাওয়ার পর সকলে বাড়ি ফিরে আসে এবং সানন্দে ঝুড়ির খাবার গুলি খায়। দিদা চায়ে চুমুক দিতে দিতে লাল পােশাক পরিহিত ছােট্ট খরগােসটির দিকে তাকিয়ে বলে – “তুমি খুবই সাহসী। এবং আমি তােমার দিদা হয়ে গর্ববােধ করি।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !