Wednesday, 5 August 2020

The Hare and The Tortoise Story in Bengali কচ্ছপ এবং খরগােসের গল্প বাংলা

The Hare and The Tortoise Story in Bengali Language: In this article, we are providing কচ্ছপ এবং খরগােসের গল্প বাংলা for students. The Hare and The Tortoise Story Bangla.

The Hare and The Tortoise Story in Bengali কচ্ছপ এবং খরগােসের গল্প বাংলা

একদা এক গভীর জঙ্গলে একটি খরগােশ এবং কচ্ছপ বাস করত। যে কোন কাজের ব্যাপারেই কচ্ছপ ছিল খুব ধীরু। সে তার প্রাতরাশ এতই ধীরে ধীরে করত যে তা শেষ হােতে হােতেই দুপুরের খাবার সময় হয়ে যেত। সে তার ঘর দুয়ার খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখত কিন্তু তা করতেও বহু সময় কেটে যেত।
অন্যদিকে খরগােস যেকোন কাজই খুবই দ্রুততার সাথে করতে পারত। কচ্ছপের ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সে তার প্রাতরাশ সম্পন্ন করে জঙ্গলে ঘুরতে বেরিয়ে যেত। যেকোন কাজ করতে কচ্ছপের কেন এত সময় লাগে তা সে কখনই বুঝে উঠতে পারত না।
কচ্ছপ তার প্রিয় বন্ধু কাঠবিড়ালির বাড়ির কাছেই বাস করত। কাঠবিড়ালি একটা ওক গাছের কোটরে বাস করত। সে সব সময় ছােটাছুটি করতে খুবই ভালােবাসতাে। তার কাছে এক ডাল থেকে আর এক ডালে লাফিয়ে যাওয়াই ছিল মজার ব্যাপার। খরগােশের মতন কাঠবিড়ালিও কচ্ছপের দেরী দেখে খুবই অবাক হােত।
খরগােশ তার পুরনাে বন্ধু পেঁচার বাড়ির কাছে বাস করত, পেঁচাও খরগােশের মতন দ্রুততার সাথে কোন কাজ করতে পারত না। আসলে সে তার বেশীর ভাগ সময়টাই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিত। কখনও কখন সে ভাবত যে, “খরগােশ খুব শীঘ্র যে কোন স্থানে যেতেপারে, যদি স কোন সময় পড়ে যায়।” 
প্রত্যেক দিন বিকেলে আবহাওয়া সুন্দর হওয়ার পর, কচ্ছপ তার রঙ এবং তুলি নিয়ে গভীর জঙ্গলে চলে যেত ছবি আঁকার জন্য। কচ্ছপটি ফুল, গাছ এবং তার বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার ছবি আঁকতে খুবই ভালােবাসাতাে। সে খুবই ধীরে কাজ করত ঠিকই কিন্তু তার সৃষ্টি ছবিগুলি ছিল অপূর্ব । 
খরগােশ এই ছবি আঁকার মধ্যে কোন রকম মজা খুঁজে পেত না। সে বলে কচ্ছপ এ কি এক ঘেয়েমি কাজ করে!’ খরগোেশজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে
খুবই ভালােবাসতাে। সে তার বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি দৌড়ে বেড়াতে খুবই • পছন্দ করত। সে সর্বদাই সর্বাধিক দ্রুত দৌড়বার চেষ্টা করত।
কিন্তু এই ব্যাপারে একটা অসুবিধা ছিল। খরগােশ নিজেকে জঙ্গলের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান, দ্রুতগামী এবং সুন্দর প্রাণী বলে মনে করত। সে কত চমৎকার তা তার বন্ধুদের বােঝাতেও ভুল করত না। যে তার নিজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলত “আমার মনে হচ্ছে আজ আমাকে খুবই সুন্দর দেখাচ্ছে। ' কচ্ছপ কখনই নিজেকে নিয়ে গর্ভ করত না। সে জানত যে সে সুন্দর নয় এবং সে খুবই ধীরু কিন্তু তা নিয়ে তার মনে কোন রকম সংকোচ ছিল
। সে ধীরে ধীরে খুব সুন্দর ছবি এঁকে এবং কঠোর পরিশ্রম করে সময় কাটাতে খুবই ভালােবাসতাে।
একদিন কচ্ছপটি ঝর্ণার ধারে বসে নদীর পারে ফুটে থাকে সুন্দর সুন্দর প্রচুর ফুলের ছবি আঁকছিল। খরগােশটি সেখানে এসে উপস্থিত হয় আর বলে কচ্ছপ তুমি সত্যিই খুব ধীরু। এ ছবি আঁকতে তােমার এক সপ্তাহ কেটে যাবে।
কচ্ছপ বিরােধীতা করে বলে আমি মােটেই ধীরু নেই।
খরগােশটি বলে তুমি সত্যিই বােকা, তুমি যে কোন বিষয়ে আমার সাথে বাজী রাখ, তুমি যা হােক কিছুর নাম বল ‘আমি এক্ষুনি তা জয় করে দেখাব।
কচ্ছপটি বলে ঠিক আছে, দৌড় প্রতিযােগিতা করলে কেমন হয়?
খরগােসটি কচ্ছপের সাথে তার দৌড় প্রতিযােগিতার কথা ভেবে খুবই খুশী হয়ে এবং বলে যথার্থ বলেছে, সে তাকে ছােট করতে পারবে ভেবে খরগােশটি মনে মনে খুবই আনন্দ পায়।
সমস্ত জঙ্গলে এই প্রতিযােগিতার কথা ছড়িয়ে যায়। প্রত্যেকটি প্রাণী ভাবছিল কিভাবে কচ্ছপ এই প্রতিযােগিতায় সম্মতি দিল। কচ্ছপ কি ভাবছে সে এই কাজ করতে পারবে? তারা সকলেই বিস্মিত হয়। এমনকি কচ্ছপ এবং খরগােশের দৌড় প্রতিযােগিতার কথা শুনে কাঠবিড়ালিও হেসে ফেলে।
সে দ্রুত গাছ থেকে নেমে পেঁচার কাছে ছুটে যায় এই খবর শােনাতে। যখন পেঁচা এই বিরাট দৌড় প্রতিযােগিতার কথা জানতে পারে তখন সে তার চোখ পিটপিট করে গম্ভীর স্বরে বলে আমার মনে হয় না খরগোেশ জিততে পারবে। কি হবে তা তুমিও বলতে পার না।
দৌড় প্রতিযােগিতার দিন বনের সমস্ত প্রাণীরা প্রতিযােগিতা দেখতে চলে আসে। প্রতিযােগিতার স্থানটি ঠিকঠাক করার জন্য ভোঁদড় এবং ছােট্ট কাঠবিড়ালিটি খুবই ব্যস্ত ছিল। প্রতিযােগিতার শেষ প্রান্ত নির্দিষ্ট করার জন্য শূকর সেখানে নিশানা লাগাতে খুবই ব্যস্ত ছিল। কাঠবিড়ালী এক তুচ্ছ বেলুন নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল, প্রতিযােগিতায় সফল প্রাণীর হাতেই এটা দেওয়া হবে।
শিয়ালকে বসানাে হয়েছিল বিচারকের আসনে। সে ঘােষণায় বলে যে “প্রতিযােগিতা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমি বিজয়ীর নাম ঘােষণা করব।”!
সেই সময় খরগােশ বলে ওঠে “চিন্তা কর না, আমার কোন অসুবিধা নেই, নিশ্চিত থাক যে আমি অনেক এগিয়ে থাকব, তাহলে বুঝতেই পারছাে কে জিততে চলেছে?
কচ্ছপ এবং খরগােশ প্রতিযােগিতা শুরুর স্থানে এসে উপস্থিত হয়। সমস্ত প্রাণীদেরকে দেখে কচ্ছপ খুবই ঘাবড়ে যায়। খরগােশ ভিড়ের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। দৌড় শেষ হওয়ার পর কচ্ছপের কি হাল হবে যে তা দেখার জন্য প্রতীক্ষা করতে থাকে।
শিয়াল দুজন প্রতিযােগিতার দিকেই তাকিয়ে দেখে এবং চিৎকার করে বলে ‘প্রস্তুত হও এবং শুরু কর।
প্রতিযােগিতা শুরু হয়ে যায়। খরগােশ প্রতিযােগিতা শুরুর রেখা অতিক্রম করে ছুটতে শুরু করে। এক পলকেই সে পাহাড়ের প্রথম ধাপ পেরিয়ে - যায়।
কাঠবিড়ালি নিজের মনেই বলে ওঠে ইশ! বন্ধু, খরগােশ কোথায় চলে গেছে। আর কচ্ছপ এখন শুরুর স্থানেই এক পা এক পা করে এগােচ্ছে। , যতক্ষণ না জয় নিশ্চিত বলে মনে করে ততক্ষণ খরগােশ ছুটতে থাকে।
তারপর সে নিজের মনেই ভাবে এটা শুধুমাত্র একটা প্রতিযােগিতা। মনে হয় আমার এখানে বসে খানিক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নেওয়া উচিত। তারপর আমি বাকি পথ দৌড়াব, এখনও আমার হাতে প্রচুর সময় আছে। এই ধীরুর পক্ষে আমাকে ধরা কোন মতেই সম্ভব নয়। তাই খরগোেশ একটা গাছের ছায়ায় বসে পড়ে এবং সেখানেই সে ঘুমিয়ে পড়ে।
হঠাৎ করে খরগােসের ঘুম ভেঙে যােয় এবং সে দৌড়াতে শুরু করে। তখন চতুর্দিকে প্রচণ্ড চিৎকার চেঁচামেচি চলছিল। সে যত দ্রুত সম্ভব দৌড়াবার চেষ্টা করছিল, কিন্তু প্রতিযােগিতার প্রান্তভাগে এসে সে অবাক হয়ে যায় এবং নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
কচ্ছপ প্রায় প্রতিযােগিতা জেতার মুখে ছিল। খরগােশের তাে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কচ্ছপ প্রান্ত রেখা পেরিয়ে যায়। 
ভিড় করে দাঁড়ানাে প্রাণীরা প্রচণ্ড উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিল। তারা সকলেই ছুটে আসে এবং খরগােশকে অভিনন্দন জানায়। সেই সময় পেঁচা নিজেরে চোখ পিটপিট করে অন্যান্য প্রাণীদের উদ্দেশ্যে বলে ধীরু অথচ অটল প্রাণীরাই প্রতিযােগিতায় জিততে পারে।”

SHARE THIS

Author:

I am writing to express my concern over the Hindi Language. I have iven my views and thoughts about Hindi Language. Hindivyakran.com contains a large number of hindi litracy articles.

0 comments: