Bengali Essay on "An Hour at Railway Station", "রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ঘন্টা বাংলা রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

Admin
0
An Hour at Railway Station Essay in Bengali Language: In this article, we are providing রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ঘন্টা বাংলা রচনা for students. Bengali Essay on An hour at Railway Station.

Bengali Essay on "An Hour at Railway Station", "রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ঘন্টা বাংলা রচনা" for Class 5, 6, 7, 8, 9 & 10

সেই ভাবে খেয়াল করলে দেখা যাবে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের একটা আলাদা জগৎ আছে। ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, যুবক বৃদ্ধ সকলেই। তাদের নিজেদের প্রয়ােজনে অপেক্ষা করতে থাকে। কেউ কেউ জীবিকা সম্পর্কে কথা বললেও কেউ কেউ পারিবারিক জীবন সম্পর্কে কথা বলছিলেন, ছাত্ররা তাদের কলেজ এবং পড়াশােনা নিয়ে কথা বললেও প্রত্যেকের মাথার মধ্যে ট্রেন আসা যাওয়ার ব্যাপারটিই ঘুরছিল। ট্রেন ছাড়া এবং ঢােকা এই একটা ব্যাপার নিয়েই প্রত্যেকটি মানুষ আগ্রহী ছিল।
রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের জীবন খুবই দ্রুতগামী জীবন। জনগণ একদিক থেকে তার একদিকে ছুটে যায়, সকলের মনে ট্রেন কখন ঢুকবে এবং কখন ছাড়বে সেই নিয়ে উৎসুকতা থাকলেও তাদের মধ্যে কেউ টিকিট কাটতে যায়, কেউ খাবার। কেউ কেউ আবার স্টেশন চত্তরেই ঘুরে বেড়ায় এবং তাদের জ্ঞাতিকুটুম্বদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। কুলী এবং টিটিরা ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকেন, এটা তাদের জীবিকা নির্ধারণের একটা ভঙ্গী।
প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য ছড়ানাে থাকে। চকচকে ব্যাগ, নােংরা ট্রাঙ্ক, প্রচুর পুঁটলি, নুতন খেলনা প্রভৃতি, দেখে মনে প্রশ্ন জাগে এখানে কি নেই? দেখে মনে হয় একটা হেলিকপ্টার এসে এই জিনিসগুলি ফেলে দিয়ে গেছে। মহিলারা তাদের জিনিস পত্র নিয়ে বসে থাকে এবং পুরুষেরা প্রহরীর মতন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।
কোন বাচ্চা হাত পা ছুড়ছিল, কেউ আদর পাচ্ছিল, কারুর কারুর কপালে মার এবং ধমক জুটছিল। একটা বাচ্চা একটা চকচকে খেলনার জন্য কাঁদছিল, তাকে বিভিন্ন উপায়ে শান্ত করার চেষ্টা চলছিল। একটা বাচ্চা খুব উপদ্রব করছিল, প্রত্যেকের নজর ছিল তারই উপরে। খুব সুন্দরভাবে পােষাক পরিচ্ছদ পরানাে ছিল, তার নূতন জুতাে এবং জামার জন্য যে খুবই অসুবিধা বােধ করছিল। অনেক দূর থেকে একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ কানে আসছিল।
বিভিন্ন লােকের মধ্যে বিভিন্ন কারণে সংশয় সৃষ্টি হওয়ার জন্য সেখানে বিবাদও দেখা গেছিল। কুলীরা বেশী টাকা চাওয়ার জন্য যাত্রীরা তাদের সাথে ঝগড়া করছিল। অনেকে খুবই সামান্য ব্যাপার নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করছিল। কিন্তু এই ঝগড়াগুলি কোন মারাত্মক রূপ ধারণ করেনি।
এর বিপরীত রূপও দেখা গেছিল, অনেকে উচ্চস্বরে হাসছিল। যুবকেরা নিজেদের মধ্যে পরিহাসমূলক কথাবার্তা বলছিল। নিম্নস্থ কর্মচারীগণ তাদের বসুকে আসতে দেখলে ঠাট্টা তামাশা বন্ধ করে দিচ্ছিল এবং তার যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল।
হকাররা অনেক বেশী যাত্রীদের আকর্ষণ করতে পারছিল না। তারা নিজের অভ্যাস বশত জিনিসপত্র বিক্রী করার জন্য খুবই চিৎকার করছিল। কিন্তু তাদের জিনিস খুব বেশী বিক্রি হচ্ছিল না।
ট্রেন স্টেশানে উপনীত হওয়ার সাথে সাথে প্রত্যেকের মধ্যেই তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। হকাররা আরও জোরে চিৎকার করতে থাকে। প্রতিটি মানুষ তার আত্মীয় এবং বন্ধুদের ব্যথিত হৃদয়ে হাত নাড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছিল। যারা সৈন্যবাহিনীতে যােগ দিতে যাচ্ছিল তাদের ফুলের মালা দিয়ে সম্মান জানানাে হচ্ছিল। যে সমস্ত ব্যক্তিরা তাদের কাছের মানুষদের অভ্যর্থনা জানাতে এসেছিল তাদের মধ্যে প্রচণ্ড আবেগ দেখা যাচ্ছিল। কয়েক মুহূর্তের জন্য সকলের লক্ষ্য ঘােষণার দিকে চলে গেছিল, কিন্তু পুনরায় তারা নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়। রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের জীবনকে জীবনের একটা বিশাল পর্যায় বলে পরিগণিত করা যেতে পারে।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !